মাযহাব

হানাফী মাযহাব
ইমাম আবু হানীফার জন্ম ৮০ হিজরীতে, মৃত্যু ১৫০ হিজরীতে। তার ইসলামী জ্ঞানের পরীসীমা অনেক বিস্তৃত ছিল। তবে , অন্যান্য বিশ্ব বিখ্যাত ইমামদের মত যেমন ইমাম আবু দাউদ, ইমাম ইবনু মাজাহর মত কোন কিতাব তিনি লিখিয়ে যাননি, বা লেখান নি। ইমাম বুখারী যেমনটি লিখেছিলেন নিজে সহীহ বুখারী, আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার), জুজ’উল রাফাদাইন, জুজ’উল কিরাত ইত্যাদি ইমাম আবু হানীফা তেমনটি করেননি। তিনি অন্যান্য ইমামদের চেয়ে বয়সে অনেক প্রবীন ছিলেন যেমন, ইমাম বুখারী হতে ১১৪ বছর, ইমাম মুসলিম এবং আবু দাউদ হতে ১২২ বছর, ইমাম তিরমিয়ী হতে ১২৯ বছর, ইমাম ইবনু মাজাহ তেকে ২১০ বছর, ইমাম নাসাই হতে ১৪৩ বছর। মুলত, তিনি ছিলেন ফিকহ বা ইসলামী যুক্তি-তর্ক আলোচনা শাস্ত্রে পন্ডিত। অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমামদের হতে সময়ে অনেক প্রবীন হওয়ায় হয়তবা কোন প্রয়োজনবোধ না থাকায় তিনি কোন কিতাব লোখার প্রয়োজন বোধ করেননি।

**ইমাম আবু হানীফা তার শিষ্যদিগকে মৌখিক শিক্ষাদান করতেন, তিনি তার কিছুই লিখিয়েও যান নাই।(ইসলামী সংস্কৃতির ইতিহাস-১৯৬পৃ, সামশুদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)
**ইমাম আবু হানীফার কোন প্রামান্য লেখা বর্তমানে নাই, হয়ত আদৌ ছিলনা (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ-২৮পৃ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)
মুলত তিনি নিজে কোন কিতাব লিখেননি, লেখায় উদসাহীও ছিলেন না। যেমন, তার ছাত্র আবু ইউসুফ একদি একটি পান্ডুলিপি হতে তার মতামত পড়ে শুনাতে লাগলে একটি কথা শুনলেন যা তার মত ছিলনা। তিনি বললেন, এ মততো আমার মত নয়, আবু ইউসুফ বললেন, ‘এটা আপনার মত নয়. আমার মত। আপনার মতের পার্শ্বে আমার মত লিখে রেখেছি।’ইমাম আবু হানীফা তখন বললেন,’আবু ইউসুফ! তুমি আমার কোন মতামত রিখে রাখবে না'(মানাকিবুল ইমাম আযম, ইমাম ফারদারী ১০৯পৃ,১ম খন্ড)

হানাফী মাযহাবের কিছু বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
আল মুখতাসারুল কুদুরী:
এটি হানাফী মাযহাবে ‘কিতাব’নামে পরিচিত, অর্থাত কোথাও কিতাবে আছে বলা হলে বুঝতে হবে সেটি আল মুখতাসারুল কুদরী। এতে ১২ হাজার মাসআলাহ আচে। এর গ্রন্থকার আবুল হাসান। পিতার নাম আহমাদ বা কুদুরী। হাড়ি-পাতিলের ব্যবসায়ীকে বলা হয় কুদুরী। আবুল হাসানও হাড়ি-পাতিলের ব্যবসায়ী ছিলেন সম্ভবত, যেকারনে তাকেও কুদুরী বলা হত। তার জন্ম ৩৬২ হিজরীরে মৃত্যু ৪২৮ হিজরীতে। অর্থাত, তিনি ইমাম আবু হানীফার মৃত্যুকাল ১৫০ হিজরীর পরে ৪২৮-১৫০=প্রায় ২৭৮ বছর পরে গ্রন্থটি সংকলিত হয়। তিনি ইমাম আবু হানীফার কথাগুলি প্রায় ২৭৮ বছর পর কোন সূত্রে পেয়েছিলেন তা অবশ্য উল্লেখ করেননি।
আল হিদায়া:
এটি মুখতাসারুল কুদুরীর ব্যাখা। লেখক আলী বিন আবী বকর। জন্ম ৫১১ হিজরী, মৃত্যু ৫৯৩ হিজরী। বইটি লেখা হয় ৫৯৩ হিজরীতে, ৫৩০-৪২৮=১৬৫ বছর পরে মুখতাসারুল কুদুরীর এই বাখা গ্রন্থটি লেখা হয়। একইভাবে এটিতেও ইমাম আবু হানীফার কথা যদিও বলা হয়েছে তবে কোন সূত্র থেকে এগুলো এসেছে তা উল্লেখ নেই।
কান যুদ্দাকায়েক:
এটির লেখক আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমুদ আননাসাফি। তার জন্ম ৬৪৫ হিজরীতে আর মৃত্যু ৭১০ হিজরীতে। বইটিতে লেখক দু:খজনকভাবে ইমাম আবু হানীফার বক্তব্যের কোন সূত্র দেননী, তেমনী হাদীসগুলোরও সূত্র উল্লেখ করেন নাই।
শরহে বিকায়া:
হিদায়ার সারসংক্ষেপ গ্রন্থ ‘বিকায়া'(লেখক মাহমুদ বিন আহমদ),আর ‘বিকায়া’র ব্যাখা হল ‘শরহে বিকায়া’।লেখক হলেন উবায়দুল্লাহ বিন মাহমুদ। জন্মতারিখ অজ্ঞাত, মৃত্যু ৭৪৭ হিজরীতে। অন্য বইগুলোর মতই এতেও হাদীসগুলোর কিতাবের বরাত দেন নাই।
মুসনাদ ইমাম আযম:
এ কিতাবের সংকলক মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ উপনাম আলাউদ্দীন হাসকাফী। জন্ম ১০২৫ হিজরীতে দামেশকে এবং মৃত্যু ১০৮৮ হিজরীতে। এ বইতেও ১০২৪-১৫০=৪৭৫ বছর পরে জন্মগ্রহন করা লেখক ইমাম আবু হানীফার নামে হাদীস বর্ননা করলেও সনদ,সূত্রের কোন উল্লেখ করেন নাই।
এছাড়াও আরো আছে : রাদ্দুল মুহতার, তানবিরুল আবসার, ফতোয়ায়ে আলমগীরী, তাহাবী শরীফ ইত্যাদি। এগুলোর লেখক ইতিহাস পরবর্তীতে দেয়া হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s