নবীদের সর্ম্পকে

মহান আল্লাহপাক মানুষকে তার বানী অসংখ্য নবীর মাধ্যমে দুনিয়া পাঠিয়েছেন, তাদের সংখ্যা অনেক, তবে তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন নবী ওবং রাসুলের কথা আমরা জনতে পাই। এখানে তাদের তালিকা দেয়া হল, যাদের কথা আল কুরআনে দেয়া আছে।

নং: কত বছর
পূর্বে
ছিলেন
নাম স্থান কতদিন
জীবিত
ছিলেন
পিতার নাম কুরআনে
কতবার
উল্লেখিত
১১.৪০০ হযরত আদম(আ) আরব
ইরাক
ফিলিস্তিন
৯৪০ ** ২৫
৯৬০০ হজরত ইদরিস (আ) সমগ্র ইরাক
আরব
৩০০ **
৮৭০০ হযরত নুহ (আ) ১০০০ ** ৪৩
৭০০০ হযরত হুদ (আ) সমগ্র দক্ষিন
পূর্ব আরব
২০০ **
৬৫০০ হযরত ছালিহ (আ) উত্তর আরব
সিরিয়া
১৯০ **
৫৭০০ হযরত ইবরাহীম (আ) ইরাক
ফিলিস্তিন
আরব
মিসর
২৭০ আযর ৬৯
৫৬৮০ হযরত লুত (আ) জর্দান ১৫০ ** ২৭
৫৬১০ হযরত ইসমাইল (আ) মক্কা ও আরব ১৪০ ইবরাহীম (আ) ১২
৫৫৯০ হযরত ইসহাক (আ) ফিলিস্তিন
সিরিয়া
১৬০ ১৭
১০ ৫৫১০ হযরত ইয়াকুব (আ) ফিলিস্তিন
মিসর
১৬০ ইসহাক (আ) ১৬
১১ ৫৪৫০ হযরত ইউসুফ (আ) মিসর ১২০ ইয়াকুব (অ) ২৭
১২ ৪৬০০ হযরত শুয়াইব (আ) পশ্চিম আরক
জর্দান
১৫৫ ** ১১
১৩ ৪৫৫০ হযরত মুসা (আ) মিসর
সিরিয়া
ফিলিস্তিন
১১০ ইমরান ১৩৬
১৪ ৪৫৭০ হযরত হারুন (আ) ১১৫ ২০
১৫ ৪০০০ হযরত আইউব (আ) ফিলিস্তিন
সিরিয়া
১০৫ **
১৬ ৩৮১০ হযরত ইউনুস (আ) (মীনওয়া)ইরাক ১২০ মাত্তা
১৭ ৩৬০০ হযরত দাউদ (আ) ফিলিস্তিন
সিরিয়া
ইরাক
১১৫ ** ১৬
১৮ ৩৫৬০ হযরত সুলাইমান (আ) ৬৯ দাউদ (আ) ১৭
১৯ ৩১০০ হযরত ইলইয়াস (আ) জর্দান
ফিলিস্তিন
১০০ **
২০ ২৯০০ হযরত আল-ইয়াসা (আ) ফিলিস্তিন ১১০ সাকিত
২১ ২৫৮০ হযরত যুলকিফল (আ) সিরিয়া
ফিলিস্তিন
৯০ **
২২ ২১২৫ হযরত যাকারিয়া (আ) ফিলিস্তিন ১৬০ **
২৩ ২০২৫ হযরত ইয়াহইয়া (আ) ৬০ যাকারিয়া (আ)
২৪ ২০২০ হযরত ঈসা ইবন মারইয়াম (আ) ৩৮,এখনও
জীবিত
পিতা ছাড়াই
জন্মগ্রহন
২৫
২৫ ১৪৪০ হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম
সমস্ত দুনিয়া ৬৩ আবদুল্লাহ

প্রশ্ন : রাসুল (সা) কি মাটির তৈরী নাকি নূরের তৈরী?

বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ -সূরা হামীম সিজদাহঃ ০৬

বল,” আমি তোমাদের মত একজন মানুষ; [কিন্তু] আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। সুতারাং যে তাহার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎ কাজ করে, এবং প্রভুর এবাদতে কাউকে শরীক না করে।”-সূরা কাহফঃ১১০

তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ , যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম। যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র] বাণীকে ধারণ করে থাকে ।-সূরা আম্বিয়াঃ০৭

তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি , যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়।” -সূরা বাকারাঃ১৫১

তোমার পূর্বেও জনপদ বাসীদের মধ্যে [নবী হিসেবে] প্রেরণ করেছিলাম মানুষকে , যাদের আমি ওহী প্রেরণ করেছিলাম ।”-সূরা ইউসুফঃ১০৯

বল: ” আমার প্রভু মহিমান্বিত! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ,একজন রাসুল মাত্র ।”-বনী ইসরাইলঃ৯৩

এখন তোমাদের মধ্যে থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে।”-সূরা তাওবাঃ১২৮

তোমাদের পূর্বে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই ছিলো [সাধারণ] মানুষ যারা খাদ্য গ্রহণ করতো, এবং রাস্তায় চলাফেরা করতো । বস্তুতঃ আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি। [হে মোমেনগণ] তোমরা কি ধৈর্য্য ধারণ করবে ? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ [সব কিছু] দেখেন।” -সূরা ফুরকানঃ২০

প্রশ্ন : রাসুল (সা) কি আল্লাহকে দেখেছেন?
*** স্বয়ং রাসুল [সা] আল্লঅহকে দেখেননি, এপ্রসং্গে সুরা নজমের প্রথমাংশের আয়াতগুলোর ভূল ব্যখা করা হয়, দেখুন:
…সে কখনও নিজের থেকে কোনো কথা বলেনা, বরং তা হচ্ছে ওহী, যা পাঠানো হয়, তাকে ওটা শিখিযেছে এমন একজন (ফেরেশতা) যে প্রবল শক্তির অধিকারী, (সে হচ্ছে) সহজাত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী; অতপর সে (একদিন সত্যি সত্যিই) নিজ আকৃতিতে (তার সামনে এসে) দাড়ালো, (এমনভাবে দাড়ালো যেন) সে উর্ধাকাশের উপরিভাগে (অধিষ্টিত); তারপর সে কাছে এলো, অতপর সে তার (আল্লাহর)বান্দার কাছে ওহী পৌছে দিল, যা তার পৌছানর দায়িত্ব ছিল; সে দেখেছে অন্তর তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনী। তোমরা কি সে বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাচ্ছ যা সে নিজের চোখে দেখেছে! সে তাকে আরেকবারও দেখেছিল, সেদরাতুল মোস্তাহার কাছে। [সুরা আন নাজম, আয়াত ৩-১৪]
এর স্পষ্ট ব্যাখা বুখারী শরীফের সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়:
ইয়াহইয়া (র) …….. মাসরুক (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মা! মুহাম্মদ (স) কি তার রবকে দেখেছিলেন ?তিনি বললেন তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনঢি কথা সম্পর্কে তুমি কি অবগত নও? যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে । যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মদ (স) তার প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাবাদী । তারপর তিনি পাঠ করলেন, তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নহেন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত; এব তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত” “মানুষেব এমন মর্যাদা লেই ষে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা ‘পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে” । আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কি হবে সে তা জানে তাহলে সে মিথ্যাবাদী । তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “কেউ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে ।“ এবং তোমাকে যে বলবে যে, মুহাষ্মদ (স)কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাবাদী । এরপর তিনি পাঠ করলেন “হে আল্লাহর রাসুল! তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ন হয়েছে, তা প্রচার কর । হ্যা, তবে রাসূল জিবরাঈল (আ)-কে তার নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন ।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন/৮ম খন্ড/সুরা নাজম তাফসীর/ হাদীস নং ৪৪৯১] তিরমিযীসহ আরো অন্য কিছু স্থানে তিনি আল্লাহকে দেখেছেন বলা হলেও, সেগুলো যইফ, দুর্বল। কাজেই আয়েশা [রা] এর স্পষ্ট শক্তিশালী সহীহ হাদিসের অনুসারে তিনি আল্লাহকে দেখেননি।
কুরআনের আয়াতে আরো বলা হয়েছে:
কোনো সাধারন দৃষ্টি তাকে দেখতে পায়না, তিনি সব কিছুই দেখতে পান।-সুরা আন’আম, আয়াত:১০৩
কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়। সুরা আস-সুরা ৫১

প্রশ্ন : রাসুল (সা) কি জীবিত?
*** রাসুল (সা) যে মৃত, তাতে আমাদের কোনভাবেই সন্দেহ করা উচিত নয়, কেননা আল কুরআনে এ সম্পর্কিত স্পষ্ট ব্যাখা আছে:
নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।-সূরা আল-যুমার, আয়াত ৩০।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন মৃত্যুবরণ করলেন, উমার (রা) অতিরিক্ত ভালবাসার কারণে প্রথমে তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি খোলা তরবারী নিয়ে ঘোষনা করেছিলেন- যে বলবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়া হবে। সেসময় আবু বকর (রা) এসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মৃত্যুর স্বপক্ষে কুরআনের এ আয়াত পাঠ করেছিলেন-

“মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া কিছু নয়, তাঁর পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন। যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন তবে কি তোমরা পশ্চাতবরণ করবে ? এবং কেউ পিছটান হলে কখনো সে আল্লাহর সামান্য ক্ষতি করতেও সক্ষম হবে না; আল্লাহ কৃতজ্ঞদের সত্বরই পুরষ্কার দিবেন”। -সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪

প্রশ্ন : রাসুল (সা) কি গায়েব জানতেন?
গায়েবের ঈলম একমাত্র আল্লাহই জানেন।এ ব্যাপারে কুরআনের আয়াতে আরো বলা হয়েছে:
“বলুন! আমি নিজের কল্যাণ-অকল্যাণ সাধনের মালিক নই। কিন্তু আল্লাহ যা চান। আমি যদি গায়েব জানতাম, তাহলে আমি অধিক কল্যান অর্জন করে নিতাম এবং অকল্যান আমাকে স্পর্শ করত না”। (সূরা আল-আ’রাফ ৭:১৮৮)

“(হে নবী) বলুন! আসমান ও জমীনে আল্লাহ ব্যতীত কেউ গায়েবের ব্যাপারে জানে না”। (সূরা নামল ২৭:৬৫)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s